
সাধারণ শ্রমিক থেকে মাফিয়া হয়ে ওঠার পেছনে রয়েছে হাজারো প্রতারণার গল্প। রক্ত ঘাম করে পরিশ্রম করা শ্রমিকদের বেতন থেকে চাঁদা তুলে শুরু হয় আলমের বাণিজ্যের সূত্রপাত। বেকার বাংলাদেশী তরুণদের চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে কাম্বোডিয়া তে এনে চিনা কোম্পানিগুলোতে বিক্রি করা তার প্রধান ব্যবসা|
অভিযোগ আছে চলতি বছরের ১৭ জুন ৪৮ জন বাঙালিকে বাভেট প্রভিন্সে চীন কোম্পানিতে বিক্রি করে এই দালাল আলম। সেসব লোকজনের প্রতি শুরু হয় অমানসিক নির্যাতন। ১ মাস পরে তারা কোম্পানি থেকে পালিয়ে আসে। কোম্পানিতে এদের পাসপোর্ট কখনো জমা দেয় নাই আলম। তিনি ভিসা করার কথা বলে সকলের কাছ থেকে টাকা নিয়ে ভিসা করেনি এবং পাসপোর্ট তার কাছে আটকিয়ে রাখে।
পরবর্তীতে পুলিশ এর সহযোগিতা নিয়ে পাসপোর্টগুলো উদ্ধার করা হয়েছে | কাম্বোডিয়াতে বিয়ে করে সে স্থানীয় ভাবে প্রসাশনিক ক্ষমতা অর্জন করে নিরহ বাঙালিদের উপর শুরু করে অত্যাচার, হামলা ও মামলার ভয় দেখিয়ে প্রবাসীদের হেনস্থা করেন, জানিয়েছেন ভুক্তভুগীরা ।
ভুক্তভোগীরা বলেন, এইবার আমাদের ক্রাইম বিভাগের কাছে আসলো গুরুতর অভিযোগ, ১৩ জন বাঙালির পাসপোর্ট এ ভিসা করে দেয়ার কথা বলে মোটা অঙ্গের টাকা আত্মসাদ করে আলম । এই বিষয়ে তার সাথে কথা বলতে গেলে দেখানো হয় পুলিশের ভয় । আমাদের ক্রাইম বিভাগ সরজমিমনে তদন্ত করে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছে।
মো. সজিব নামে এক ভুক্তভোগী বলেন, আমি কম্বোডিয়ায় আসি কাজের সন্ধানে। এখানে এসে আমার দালাল আলমের সঙ্গে পরিচয় হয়। তিনি আমাকে ১ লাখ টাকা বেতনে চারকি দিবে বলে আমাকে একটা চীণা কোম্পানির কাছে বিক্রি করে দেয়। এরপর আলম আমাদের বেতনের টাকা ও ভিসা নিয়ে পালিয়ে যায়। এখন তার খোঁজ নেই। এদিকে ওই চীনা কোম্পানিটিও বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আমরা ৫ মাস যাবত অবৈধ ভাবে কম্বোডিয়ায় আছি।
একই অভিযোগ নিলয় নামের আরেক ভুক্তভোগীর। তিনি বলেন, কম্বোডিয়ায় এসে আলমের সাথে পরিচয় হয়। সে আমাকে চীনা কোম্পানিতে বিক্রি করে দেয়। এবং আমার বেতন এবং কোম্পানি থেকে দেয় ভিসা নিয়ে পালিয়ে যায়। আমরা এখন অবৈধ ভাবে কম্বোডিয়া বাস করছি।
এই বিষয়ে ভুক্তভোগীরা বরগুনা পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন। তিনি জানিয়েছেন অতিশীগ্রই বিষয়টি তদন্তপূর্বক আইনের আওতায় আনা হবে।




