পুরাতন আমাশয় কেন হয়: ডা. মো. নাজমুল হক মাসুম

আজকাল প্রায়ই একটি কথা শোনা যায় পুরাতন আমাশয়। অনেক রোগীর ক্ষেত্রেই দেখা যায়, মলত্যাগটা তার ঠিকমতো হয় না, মলত্যাগের পর পূর্ণতা আসে না। মলত্যাগের সময় আমাশয় জাতীয় বা আম জাতীয় পদার্থ যায়; অনেকেই বলে পিচ্ছিল জাতীয় পদার্থ বের হয়। এই যে পুরাতন আমাশয়, আমরা যা বলে থাকি তা বিভিন্ন কারণে হতে পারে। তার মধ্যে একটি কারণ হচ্ছে-আইবিএস। এটি হচ্ছে ‘ফাংশনাল ডিসঅর্ডার’ যেটিকে আমরা ইরিটেবল বাওয়েল সিনড্রোম বলে থাকি। কখনও কখনও দেখা যায় মলদ্বারে বা কোলনে ইনফ্ল্যামেটোরি বাওয়েল ডিজিজ যেটাকে আমরা আইবিডি বলে থাকি। সেক্ষেত্রেও এ রকম উপসর্গ হতে পারে। তার একটা রোগ হচ্ছে আলসারঅ্যাটিব কোলাইটিস (Ulcerative Colitis), আরেকটা রোগ হচ্ছে ক্রনস্ ডিজিজ (Crohns Disease)। আবার কারো যদি কোলনে ক্যান্সার হয়, তাহলেও কিন্তু মলত্যাগের পর আম জাতীয় পদার্থ যায়, রক্ত যায় কিংবা পেটে ব্যথা করতে পারে। কাজেই মলদ্বারো কারো যদি আমাশয় জাতীয় কোনো সমস্যা থাকে, মলত্যাগ করার সময় মিউকাস জাতীয় পদার্থ মিশ্রিত থাকে। তাহলে আপনি পুরাতন আমাশয় ভেবে বাসায় বসে থাকবেন না। এই রোগটা আমাদের সমাজে সঠিকভাবে নির্ণয় করা করা হয় না এবং আমরা অনেক রোগী পাই, তার হয়তো ক্যান্সার হয়েছে; কিন্তু সে পুরাতন আমাশয় ভেবে বাসায় বসে, ফার্মেসি থেকে বিভিন্ন ওষুধ কিনে খাচ্ছে। এতে হয়তো সে কিছুটা প্রাথমিক উপকার পাচ্ছে; কিন্তু যখন আমাদের কাছে আসে তখন দেখা যায় তার ক্যান্সারটা বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে গেছে। যেমন : লিভারে যেতে পারে, পেটের বিভিন্ন অংশে ছড়িয়ে যেতে পারে; তখন কিন্তু তার চিকিৎসা খুবই জটিল হয়ে পড়ে। কারো যদি ইনফ্ল্যামেটোরি বাওয়েল ডিজিজ থাকে এবং প্রাথমিক অবস্থায় যদি আমরা চিকিৎসা শুরু করতে পারি; তার ক্ষেত্রে সার্জারি কিংবা অপারেশনের সম্ভাবনা কিন্তু অনেক কমে যায়। যদি দেখা যায়, ১০ বছর পরে তার রোগটা নির্ণয় হচ্ছে, তাহলে কিন্তু তার চিকিৎসা জটিল হয়ে যায়।

সেক্ষেত্রে খাদ্যনালীতে উপসর্গের পাশাপাশি তার অন্যান্য উপসর্গ দেখা দেয়-হাঁটুতে ব্যথা, চোখে সমস্যা যেটাকে আমরা এক্সটা ইনটেসটিনাল ম্যানিফেস্টেমন/অন্ত্রের বাইরে উপসর্গ বলে থাকি। কাজেই পুরাতন আমাশয় ভেবে কেউ ফার্মেসি থেকে ওষুধ কিনে খাবেন না। এ জাতীয় সমস্যা হলে অবশ্যই একজন চিকিৎসকের শরণাপন্ন হবেন। চিকিৎসক আপনার বর্ণনা শুনবেন, ক্ষেত্রবিশেষে আপনার কোলনস্কোপি করবেন এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করে আপনার রোগটাকে নির্ণয় করে; সঠিক পরামর্শের মাধ্যমে সঠিক চিকিৎসা দিবেন। কারো ক্ষেত্রে দেখা যায় যদি, ইরিটেবল বাওয়েল সিনড্রোম থাকে; সেক্ষেত্রে দুধ বা দুধ জাতীয় খাবার খেলে এই সমস্যাটা বাড়ে, এটাকে আমরা ফাংশনাল ডিসঅর্ডার বলে থাকি। এসব রোগীকে যখন আমরা বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে নিশ্চিত হতে পারব তার ইনফ্ল্যামেটোরি বাওয়েল ডিজিজ এবং ক্যান্সার নেই, তার সমস্যা হচ্ছে আইবিএস; তাদের আমরা বিভিন্ন পরামর্শ দিয়ে বা বিভিন্ন ওষুধ দিয়ে সম্পূর্ণভাবে আমরা নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারি। কাজেই পুরাতন আমাশয় সম্পর্কে আমাদের সঠিক জ্ঞান থাকা দরকার। এটার সঠিক চিকিৎসা যদি আমরা আগে-ভাগে করতে পারি, তাহলে এর জটিলতা পরিহার করতে পারি। সবাইকে ধন্যবাদ।

ডা. মো. নাজমুল হক মাসুম
জেনারেল ও কোলো-রেকটাল সার্জন
সহযোগী অধ্যাপক, ঢাকা মেডিকেল কলেজ
মোবাইল : ০১৪০৭০৬২৫০২
www.drnazmulhoque.com

Recommended For You