কেনযে রাত আসে- মিরন আহমেদ

কেনযে রাত আসে—
চালতা ফুলের গন্ধ মুছে দিয়ে
নিস্তব্ধ উঠোনে নামে কুয়াশা;
পথের ধারে শেওলা জমে থাকে,
কেউ যেন বহুদিন সেখানে আসেনি।
অষ্টমীর চাঁদ
নদীর ওপারে ডুবে যায় ধীরে—
তারপরও দূরের বাঁশবনে
একটি পাখি ডেকে ওঠে;
আমি তার ভাষা জানি না।
কেবল মনে পড়ে—
কতকাল আগে বাবার হাত ধরে
সন্ধ্যার পথ পেরিয়ে মসজিদে যেতাম।
ধানের গন্ধ ছিল বাতাসে,
ঘাসের ডগায় শিশির,
আর পৃথিবীটাকে মনে হতো
বাবার হাতের চেয়েও ছোট।
শীত এলে মা
চুলার পাশে বসে পিঠা বানাতেন;
ভাপ ওঠা চালের গন্ধে
ঘর ভরে যেত।
আমরা দরজার দিকে তাকিয়ে থাকতাম—
বাবা ফিরবেন বলে।
কত শীত চলে গেল।
কত কুয়াশা ভোর হয়ে গেল।
সেই উঠোনে এখন হয়তো
একটি শুকনো পাতা পড়ে থাকে শুধু—
তারও মনে নেই
কত মানুষের পায়ের শব্দ শুনেছিল সে।
কোনো এক শীতের রাতে
তোমার সঙ্গে বসব—
নারকেল দেওয়া গরম রং চায়ের পাশে
নিঃশব্দে পড়ে থাকবে সন্ধ্যা।
শুধু দূরের কোনো অন্ধকার মাঠে
বনোবিলের ধারে জারুল ফুটবে
কেন যে মানুষ বড় হয়—
কেন যে তার শৈশব
একদিন নদীর ওপারে চলে যায়;
কেন যে মা-বাবার মুখ
স্মৃতির ভিতর আরও উজ্জ্বল,
আর পৃথিবীর সমস্ত দিন
ক্রমে ক্রমে অন্ধকার।
মৃত্যু আসে—
যেমন কুয়াশা আসে ধানের ক্ষেতে,
কেউ তার পায়ের শব্দ শুনতে পায় না।
তারপরও চালতা ফুল ঝরে।
পথের ধারে শেওলা জমে।
অষ্টমীর চাঁদ ডুবে যায়।
এই পৃথিবীর প্রান্তরে
আমাদের রেখে যাওয়া দুঃখগুলো
নিঃশব্দে ঘাস হয়ে জন্মায়।

 

লেখা: মিরন আহমেদ

ব্রডকাস্ট জার্নালিস্ট, ঢাকা।

Recommended For You