স্বপ্নপূরণে ক্যামেরার পেছন থেকে পর্দার সামনে এগোচ্ছে মুরাদ

একসময় যিনি ছিলেন ক্যামেরার পেছনে তিনিই এখন নিজেকে আবিষ্কার করছেন পর্দার সামনে। আলোকচিত্রী আরিফুল ইসলাম মুরাদ বরগুনার সুপরিচিত একজন চিত্রগ্রাহক। যিনি দীর্ঘদিন ধরে সংবাদমাধ্যমের জন্য ক্যামেরায় ধারণ করেছেন সময়ের গল্প, জীবনের রঙ, মানুষের হাসি-কান্না। সেই মুরাদ এখন আলোচনায় ভিন্ন পরিচয়ে অভিনয়শিল্পী হিসেবে।

মুরাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বহু আগে অভিনয়ের প্রতি তার ভালোবাসা জন্মালেও তার যাত্রা শুরু হয় বরগুনার স্থানীয় থিয়েটার আলোড়ন থিয়েটারের হাত ধরে। মঞ্চের সংলাপ, আলোর ছায়ায় নাটকীয় মুহূর্তের সাথে ধীরে ধীরে তার হৃদয়ের সখ্য গড়ে ওঠে। থিয়েটার থেকে নাটকে প্রবেশটা হয়েছিল অনেকটা আত্মবিশ্বাসের জোরে। পরবর্তীতে নিজেই গড়ে তোলেন একটি প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান প্রজাপতি মাল্টিমিডিয়া। যেখানে নাট্যনির্মাণের পাশাপাশি নিজেও অভিনয়ে যুক্ত হন। বন্ধু খান নাইম পরিচালিত নাটক আকাব্বারের মাধ্যমে পর্দার সামনে তার অভিষেক ঘটে। সেখানেই প্রথম স্বাদ পান ক্যামেরার সামনে থেকে নিজের গল্প বলার।

শুধু নাটকেই নয় বরগুনায় নির্মিত বিভিন্ন ভিডিও ডকুমেন্টারি ও শর্ট ফিল্মে অংশ নিয়ে মুরাদ পেয়েছেন জনপ্রিয়তা ও সম্মাননা। বরগুনা সায়েন্স সোসাইটির জ্যেষ্ঠ ক্যামেরাম্যান অ্যাওয়ার্ড তার কর্মজীবনের এক অনন্য স্বীকৃতি।

আরিফুল ইসলাম মুরাদ বলেন, প্রথম দিকে শুধুই ক্যামেরার প্রেমে কাজ করতাম। ধীরে ধীরে বুঝতে পারিআমি ক্যামেরার সামনে থেকেও মানুষের গল্প বলতে পারি। সেই জায়গা থেকেই অভিনয়ের দিকে যাত্রা।

মুরাদ ইতোমধ্যে কাজ সম্পন্ন করেছেন একাধিক আলোচিত নাটকে। তার উল্লেখযোগ্য নাটকগুলোর মধ্যে রয়েছে লোকাল টাউট। যেখানে মাছ ব্যবসাকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা স্থানীয় কাহিনি তুলে ধরা হয়। নাটকটি দর্শকপ্রিয়তা পাওয়ার পর তিনি অভিনয় করেন রক্তের বাঁধনে।যা ছিল পারিবারিক ও মানবিক সম্পর্কের গল্প। এছাড়া ফাহিম মিউজিক প্রযোজিত বাপ বেটা ডিস্কো এবং বাপ বেটা কিপটা নাটকে তার অভিনয় ব্যাপক প্রশংসিত হয়। বিশেষ করে বাপ বেটা ডিস্কো নাটকের সাবানের দৃশ্য সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায় এবং দর্শকের দৃষ্টি কাড়ে। আরও একটি উল্লেখযোগ্য অভিজ্ঞতা ছিল পরিচালক মীর সাব্বিরের নাটক আমার মা’তে অভিনয় করা। যদিও সেখানে তিনি একটি ছোট চরিত্রে ছিলেন। তবু তা ছিল তার জন্য গর্বের একটি মাইলফলক।

বর্তমানে মুরাদ কাজ করছেন আরকেআর প্রোডাকশন হাউজের নাটক মুখোশের আড়ালে। পাশাপাশি ধারাবাহিক নাটক নাসা বিল্ডিংয়ে তিনি অভিনয় করছেন এক ক্যানভাসারের চরিত্রে। এতে তার সহশিল্পী হিসেবে আছেন দক্ষিণাঞ্চলের জনপ্রিয় শিল্পী আলমাস। যেখানে তারা মামা-ভাগ্নে চরিত্রে হাস্যরস ছড়াচ্ছেন। এছাড়াও অভিনয়ের পাশাপাশি মুরাদ নিয়মিত চিত্রগ্রাহক হিসেবেও কর্মরত আছেন। বর্তমানে তিনি এনটিভির বরগুনা চিত্রগ্রাহক হিসেবে কাজ করছেন এবং স্থানীয় নানা অনুষ্ঠান ও ভিডিও প্রজেক্টে ক্যামেরা ও সম্পাদনার দায়িত্বে আছেন।

অভিনয়ের আরও গল্প বলতে গিয়ে মুরাদ বলেন, স্বপ্নটা মনের মধ্যে ছিলই। কিন্তু বাস্তবে শুরুটা সহজ ছিল না। আমি অভিনয়ে সুযোগ না পেয়ে প্রথমে চিত্র সাংবাদিকতায় যুক্ত হই। এখন ধীরে ধীরে স্বপ্নটা ছুঁয়ে দেখার সুযোগ পাচ্ছি। স্থানীয়ভাবে কাজ করছি। কিন্তু লক্ষ্য জাতীয় পর্যায়ে নিজেকে তুলে ধরা। আমার পরিকল্পনায় আরও কয়েকটি নাটক রয়েছে। যেগুলোতে সমাজের গল্প, মানুষের জীবনের টানাপোড়েন এবং মফস্বলের প্রতিদিনের জীবনধারার চিত্র তুলে ধরা হবে।

বরগুনা জেলা শিল্পকলা একাডেমির কালচারাল অফিসার তানজিলা আক্তার বলেন, মফস্বল থেকে জাতীয় পর্যায়ে নিজেকে তুলে ধরা সহজ কাজ নয়। তবে যদি স্বপ্ন থাকে আর লড়াই চালিয়ে যাওয়া যায় তাহলে বরগুনার এক চিত্রগ্রাহকও একদিন হয়ে উঠতে পারে জাতীয় পর্দার একজন শক্তিশালী অভিনেতা। মুরাদ যেভাবে নিজেকে প্রস্তুত করছে আমরা বিশ্বাস করি সে একদিন জাতীয় পর্দায় নিয়মিত মুখ হয়ে উঠবে।

Recommended For You